পারফিউম: দ্যা স্টোরী অব আ মার্ডারার || Perfume- The Story of a Murderer


পারফিউম: দ্যা স্টোরী অব আ মার্ডারার  Perfume- The Story of a Murderer 



Perfume- The Story of a Murderer

পারফিউম: দ্যা স্টোরী অব আ মার্ডারার || Perfume- The Story of a Murderer 

আমরা জানি সুরের যেমন সাতটি মৌলিক নোট  আছে ,যা দিয়ে তৈরী হয় শ্রুতি মধুর নানা রকমের  সুর, তেমনি আছে  রং এর ও  কয়েকটি মৌলিক রং।আর তা দিয়েই চিত্র শিল্পীরা তৈরী করে নানা ধরনের চিত্রকর্ম। অনুরূপ পারফিউমের রয়েছে নিজস্ব মৌলিক কিছু স্তর বা নোট। টপ নোট ,মিডল বা হার্ট নোট ,বটম বা বেজ নোট আর ব্রিজ। কয়েকটি সুগন্দির মিশ্রনে তৈরী হয় পারফিউম। প্রথমে টপ নোট নাকে এসে ধাক্কা দিয়ে মনকে উতলা করে তারপর ধীরে ধীরে বেজ নোটের সহায়তায় তা ছড়িয়ে পরে। এই বেজ বা বটম নোট হল সুগন্ধির ভিত্তি আর ব্রিজ এর কাজ পারফিউমকে বিভিন্ন সময়ে সন্তরনে সহায়তা। পারফিউম এক্সপার্ট ছাড়া সুগন্ধির এই নোট ধরা আমাদের সম্ভব নয়। 

এরকমই এক গন্ধ বিশারদ তৈরী করে ফেলে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পারফিউম ,তাও আবার মানুষের শরীর থেকে। অ্যাম্বারগ্রিজ বা তিমি মাছের বমি কিংবা হরিণের নাভিমূল কস্তুরী থেকে পৃথিবীর সেরা পারফিউমগুলো তৈরী হয় সবাই জানে কিন্তু মানুষের দেহ থেকে ? বাস্তবে অসম্ভব হলেও সেলুলয়েডের ফিতায় তা সফল ভাবে করে দেখিয়েছে জার্মান পরিচালক টম টাইকার।  সিনেমাখোর রূপক আমাকে কয়েকটা লিস্ট ধরিয়ে দিয়ে প্রথমেই এই পারফিউম মুভিটা দেখতে বলে।

 ২০০৭ সালে কোনো এক পত্রিকায় পড়েছিলাম এই সিনেমার কথা। ধরেই নিয়েছিলাম শেষ দৃশ্যে যেহেতু কয়েকশো মানুষের নগ্ন দৃশ্যে জুড়িয়ে দিয়েছে ওটা ১৮+ দের সিনেমা । মাঝখানে দীর্ঘ বিরতির পর যখন মুভিটি দেখতে বসি একবার মনে হচ্ছিলো এটি একটি আধো ভৌতিক সিনেমা পরক্ষনে মনে হচ্ছিলো এটি একটি সিরিয়াল কিলারের কাহিনী। 

Perfume- The Story of a Murderer


প্রযোজক ব্রেন্ড ইঞ্চিণজার মূল কাহিনী সাসকাইন্ডের কাছ থেকে কেনার পরই বিরকিন কে নিয়ে চিত্রনাট্য লিখে ফেলে প্যাট্রিক সাসকাইন্ড তার বিখ্যাত উপন্যাস 'পারফিউম' অবলম্বনে টম টাইকার  তৈরী করে ১৪৭ মিনিটের তার সেরা মুভি পারফিউম দ্যা স্টোরী অব আ মার্ডারার।  । কিন্তু মূল চরিত্র খুঁজে না পাওয়ায় নির্মাণ করতে অনেকটা সময় চলে যায়। অনেক যাচাই বাছাইয়ের পর ২০০৫ সালে স্পেন ,জার্মানি এবং ফ্রান্সের লোকেশনে চিত্রধারণ শুরু হয়। সেই সময় জার্মানির সর্বোচ্চ বাজেটে ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নির্মিত হয় পারফিউম দ্যা স্টোরী অব আ মার্ডারার।

প্রচুর মানুষ আর পোষাক আর অসাধারন সিনেমাটোগ্রাফি খুব সহজেই আঠারোশ  শতাব্দীর ফ্রান্সকে ফুটিয়ে তুলেছেন টম টাইকার ২০০৬ সালে মুক্তির পর এটি আয় করে নেয় ১৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।গ্রানুইলির চরিত্রে রূপদানকারী বেন উইসশো সম্পূর্ন চরিত্রটিকে তুলে ধরেছেন অসাধারন দক্ষতায়।বিশাল মাছের বাজার,  

১৪৭ মিনিটের এই মুভিটির শুরুতে দেখি প্যারিসের এক মাছ বাজারের মধ্যে জন্ম নেয়া গ্রানুইলিকে তার মা অনাদরে ফেলে রেখেছিল জন্মের পরই মারা যাবার জন্য।কেননা পিতৃপরিচয় দেওয়ার মত কোনো কিছু ছিলোনা ওই মহিলা জেলের। ঘটনাচক্রে সেখানে মাছ কিনতে আসা এক পুলিশ কর্মকর্তা সদ্য ভুমিষ্ট গ্রানুইলের কান্নার আওয়াজ শুনতে পায়।কিন্তু মাছের আড়তে জন্ম নেওয়া ছোট্ট গ্রানুইল না মরে ফাঁসির দড়িতে মরতে হয় তার মাকে। গ্রানুইলের ঠাঁয় হয় এতিমখানায়।আষ্টে গন্ধওয়ালা মাছের আড়তে জন্ম নেওয়া গ্রানুইল পায় গন্ধ শোকার এক বিশেষ ক্ষমতা। ১৭ বছর এতিমখানায় থাকার পর তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয় এক চামড়ার কারখানায়।কঠোর পরিশ্রমে কেটে যাওয়া গ্রানুইল খুঁজে ফেরে সবকিছুর গন্ধ এমনকি জলের তলের গন্ধও সে বুঝে ফেলে এক নিমিষেই। 

ঘটনা চক্রে একদিন সে সময়কার প্যারিসের নামকরা পারফিউম ব্যাবসায়ী বালদিনির সাথে।বালদিনি তাকে সেই চামড়া ব্যাবসায়ীর কাছ থেকে চড়া দামে কিনে নেয়। গ্রানুইল তার বর্তমান মনিবের কাছ থেকে সুগন্ধি বানানোর প্রক্রিয়া শেখার পর সে তৈরী করতে থাকে নানা প্রকারের পারফিউম আর অন্যদিকে বালদিনি উপার্জন করতে থাকে কাড়ি কাড়ি টাকা। একদিন সে পারি জমায় গ্রাসের উদ্দেশ্যে যেখানে তৈরী হয় পৃথিবীর বিখ্যাত সব সুগন্ধি। বিশাল সব ফুলের বাগান হাজারো শ্রমিকের শ্রমে তৈরী হচ্ছে সুগন্ধি সমূহ।সে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে সে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সুগন্ধি আবিষ্কার করবে। সুন্দর সুগন্ধি আবিষ্কারের নেশা তাকে পেয়ে বসে ।

Perfume- The Story of a Murderer
 Perfume- The Story of a Murderer 


 একটার পর একটা চেষ্টা সে করে যেতে থাকে সে কিন্তু তার মনঃপুত হয়না কোন সুগন্ধি । একসময় সে আবিষ্কার করে নারীদেহের এক মোহনীয় সুগন্ধ।তার ধ্যান জ্ঞান হয়ে দাঁড়ায় সুন্দরী কুমারী নারীদেহ থেকে কিভাবে সেই সুগন্ধকে ধরে রাখবে। টাকার বিনিময়ে অনুমতিক্রমে এক নারীর শরীর থেকে সুগন্ধি তৈরী করতে চায় কিন্তু তাতে সেই নারী রাজি না হলে তাকে হত্যা করে এবং বিশেষ এক গাদের সাহায্যে শরীর থেকে চেঁছে নেয় শরীরের নির্যাস আর তৈরী করে সুগন্ধি। হয়ে উঠে এক সিরিয়াল কিলার। শহর জুড়ে শুধু কুমারী মেয়েরা নিখোঁজ হতে শুরু করলো এবং তাদের নগ্ন লাশ বিভিন্ন জায়গায় পরে থাকতে লাগলো। শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে , যারই ঘরে কুমারী মেয়ে আছে তার মাঝেই কোনপ্রকার স্বস্তি নেই ।

একের পর এক হত্যা , অনেকভাবে চেষ্টা করেও কোনো কুলকিনারা করে উঠতে পারছেনা।এদিকে শহরের প্রধান তার কুমারী মেয়েকে নিয়ে আতঙ্কে আছে।গ্রানুইল তার সেরাটা তৈরী করার শেষ পর্যায়ে আসে। তার আর প্রয়োজন একটি কুমারী মেয়ের এবং তার নজর পরে শহর প্রধানের সুন্দরী মেয়ের দিকে। কিন্তু শহর প্রধান  তার মেয়েকে নিয়ে বহুদূরে চলে যায়। দূর থেকে গন্ধ শুকে গ্রানুইল ঠিকই হাজির হয় তাদের কাছে। শহর প্রধান নিরাপদ স্থানে চলে গিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনা তার একমাত্র মেয়েকে। গ্রানুইল যখন তৈরী করে ফেলে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পারফিউম ঠিক তখুনিই সে ধরা পরে যায় রক্ষীদের হাতে। হাজার হাজার জনতা তার প্রকাশ্য ক্রূশ বিদ্ধ করা দেখতে এসেছে আর গ্রানুইল তখন তার সেই নিজের কাছে লুকিয়ে রাখা পারফিউমের মুখ খুলে ফেলে। তারপর!!!




পু

Comments

Popular posts from this blog

উফ বুঝলাম না || মিস চকোলেট ভাইরাল ভিডিও || Uff Bujhlam Na || Miss Choclate Bangla Vairal Videos